Philosophy

কৃষ্ণ-জীবনে ভগবদ্গীতা – যুদ্ধ

গীতার মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্জুনকে যুদ্ধে সম্মত করিয়ে শত্রুনিধন। কৃষ্ণ তাঁর বাক্যে কোনরকম জড়তা না রেখে অর্জুনকে অগ্রসর হয়ে প্রতিপক্ষের সম্মুখীন হওয়ার কথা বলেন। অর্জুনের মনে এই প্রত্যয় আনয়নের পথে তিনি নানাবিধ যুক্তিজাল বিস্তার করেছেন (ভ. গী. ২.৩১-৩৩, ১১.৩৪)। কিন্তু এগুলি কোনও শূন্যগর্ভ উপদেশাবলী নয়। কৃষ্ণ নিজেও প্রচুর প্রাণনাশ করেছেন। তিনি নিজেও নিজেরই আত্মীয়স্বজনকে হত্যা করেছেন। তিনি নিজের মাতুল কংসকে বধ করেছেন কারণ কংস একজন ধর্মভ্রষ্ট অত্যাচারী শাসকে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি পূতনা (ভ.পু. ১০.৬), শকটাসুর (ভ.পু. ১০.৭), অঘাসুর (ভ.পু. ১০.১২), ধেনুকাসুর (ভ.পু. ১০.১৫), প্রলম্বাসুর (ভ.পু.

Tradition of the Bhagavad Gita Over the Centuries

New Dimensions of Meaning

The qualities of poetry, song, and sastra are all infused in the Gita. In the view of the Three Acaryas [Adi Sankara, Ramanuja and Madhva], it is evident that the Gita forms the foundation stone for Vedanta-Sastra. However, in the context of the Gita, the term “Sastra” has a deeper connotation than is commonly understood. Here, Sastra means those procedures or processes or methods that come in handy for the pursuit of spirituality.

The Bhagavad Gita: A Yogic State and an Exalted Vision

The Bhagavad Gita’s Fame Rests on its Value

Over centuries, commentaries on the Bhagavad Gita have been composed in various languages. However, even today, the devout followers of the work continue to write newer commentaries on it thinking they have found a new insight. Such new commentaries attract their own unique readership which only shows the preeminence of the original work. In recent decades, we can say that the number of saints and speakers who haven’t used the Gita as the subject of their discourses is very few.

কৃষ্ণ-জীবনে ভগবদ্গীতা – শান্তি পথ

গীতায় কৃষ্ণ শান্তিলাভ করার নিমিত্ত এক অশ্রুতপূর্ব সূত্র প্রদান করেন। তিনি বলেন যে, যখন কোনও ব্যক্তি কামনার ঊর্দ্ধে গিয়ে, আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ ক’রে, অহং এবং অধিকারবোধ বর্জন ক’রে জীবন অতিবাহিত করেন, তখনই সেই ব্যক্তি প্রকৃত শান্তিলাভ করেন (ভ. গী. ২.৭১)। কৃষ্ণ নিজজীবনে শান্তিলাভের জন্য অবিকল এই পন্থাই অনুসরণ করেছেন।

The Singularity of the Bhagavad Gita: Introduction

Note: This is the English translation of Dr. S.R. Ramaswamy’s Kannada article titled “Giteya ananyate” published in the December 2018 edition of the “Utthana” magazine.

The world famous writer on spirituality, Paulo Coelho said the following on a recent occasion: “The moment I read the Bhagavad Gita, I fell in love with the book. It continues to be my book for all times. The Gita teaches you to understand the mystery, accept your destiny and when there is a battle to face, to go forth and fulfil your task.”

কৃষ্ণ-জীবনে ভগবদ্গীতা – সারল্য

কৃষ্ণের জীবনের প্রারম্ভে তেমন প্রাচুর্য না থাকার কারণেই সম্ভবত তিনি অনাড়ম্বর জীবনেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। যদিও পরবর্তীকালের পণ্ডিতদের কল্পনায় কৃষ্ণের পরিহিত বহুমূল্য বস্ত্রাদির উল্লেখ পাওয়া যায়, কিন্তু প্রাচীন গ্রন্থগুলি থেকে তেমন কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়না। তাঁর বস্ত্রের বর্ণ ছিল হলুদ (পীতাম্বর), খুব সম্ভবত তাঁর কৃষ্ণ গাত্রবর্ণের সঙ্গে মানানসই হত বলে। তাঁর ভূষণ ছিল যৎসামান্য। তিনি বনপুষ্পমাল্যে ও মৌরমুকুটে সুশোভিত হতেই পছন্দ করতেন।

কৃষ্ণ-জীবনে ভগবদ্গীতা – বহুজ্ঞ কৃষ্ণ

গোপালকদের মাঝে বেড়ে ওঠা কৃষ্ণ ছিলেন প্রকৃত অর্থেই একজন ভূমিপুত্র। শিশুকাল থেকেই যেন প্রকৃতির সাথে তাঁর আত্মিক যোগ। শৈশবেই তিনি প্রাকৃতিক পরিবেশকে শ্রদ্ধা করতে শিখেছিলেন। ভাগবত পুরাণের একটি অধ্যায়ে তাঁকে একটি সুপ্রাচীন বটবৃক্ষের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে দেখা যায় (ভা.পু. ১০.২২)। বৃক্ষ, গাভী ও মানুষের প্রতি কৃষ্ণকে সশ্রদ্ধ হতে দেখা যায়। সশ্রদ্ধ হতে দেখা যায় সমগ্র সৃষ্টির প্রতি। এমনকি, যুদ্ধে পরাজিত করার পরেও তিনি কালিয়ানাগকে বধ করেননি, বরং পুনর্বাসিত করেন (ভা.পু.

কৃষ্ণ-জীবনে ভগবদ্গীতা – শৈশব

এমন কিছু মানুষ থাকেন যাঁদের বয়সের সাথে পূর্ণতা লাভ করার প্রয়োজন পড়েনা, জন্মের সাথে সাথেই যাঁরা সম্পূর্ণ, আত্মজ্ঞানে পরিপূর্ণ। আন্তর বিবর্তন ও মানসিক বৃদ্ধি তাঁদের নিষ্প্রয়োজন, কারণ তাঁরা ইতিমধ্যেই বিবর্তিত। কৃষ্ণ হলেন তাঁদেরই একজন। শৈশবাবস্থার কৃষ্ণলীলা আমাদের সবিস্তারে পরিচিত হলেও, তাঁর তৎকালীন চিন্তাধারা আমাদের অবগত নয়। আমরা যেটুকু বুঝতে পারি সেটা হচ্ছে, তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ যিনি শৈশবাবস্থা থেকেই সকল উত্থান-পতন কে জীবনের অঙ্গ হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। ভালমন্দ সমেত জীবনকে সাদরে গ্রহণ করেছিলেন (ভ.গী. ২.৫০)।

কৃষ্ণ-জীবনে ভগবদ্গীতা – কথামুখ

আমাদের অনেকের কাছেই কৃষ্ণ হলেন হিন্দুধর্মাদর্শের প্রতীক। তাঁর প্রতিটি চিন্তাধারায়, বাণীতে ও কর্মে হিন্দুমতাদর্শ প্রতিফলিত হয়। তাই এতে এমন কিছু আশ্চর্য লাগেনা, যখন দেখা যায় যে, ভারতযুদ্ধকালীন অর্জুনকে প্রদত্ত তাঁর পরামর্শ গুলি হিন্দু-ভাবনার সর্বশ্রেষ্ঠ সারকথা রূপে পূজিত হয়। ভগবদ্গীতার বর্তমান রূপ-টির প্রতিটি শব্দই যে কৃষ্ণ কর্তৃক উচ্চারিত হয়েছিল, তা আজ জোর দিয়ে বলা না গেলেও, খুব সম্ভবত এটাই মনে হয় যে, অন্তত গীতার মূল সার-টি কৃষ্ণেরই বাণী। আমরা সকলেই কখনও না কখনও এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি, যেখানে কোনও এক হতাশাগ্রস্ত বন্ধু পরামর্শ আশা করেছে। এমতাবস্থায় আমাদের সবচেয়ে স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হল,