কৃষ্ণ-জীবনে ভগবদ্গীতা – আত্মজ্ঞান

This article is part 13 of 14 in the series কৃষ্ণ-জীবনে ভগবদ্গীতা

গীতার ত্রয়োদশ অধ্যায়ে, কৃষ্ণ যেসব বিভিন্ন গুণাবলীর বর্ণনা দেন, সে সকলই প্রকৃত গুণের পরিচায়ক (ভ. গী. ১৩.৭-১১)।

অমানিত্বমদম্ভিত্বং অহিংসা ক্ষান্তিরার্জবম্ |
আচার্যোপাসনং শৌচং স্থৈর্যমাত্মবিনিগ্রহঃ |৭|
ইন্দ্রিযার্থেষু বৈরাগ্যং অনহঙ্কার এব চ |
জন্মমৃত্যুজরাব্যাধি দুঃখদোষানুদর্শনম্ |৮|
অসক্তিরনভিষ্বঙ্গঃ পুত্রদারগৃহাদিষু |
নিত্যং চ সমচিত্তত্বং ইষ্টানিষ্টোপপত্তিষু |৯|
মযি চানন্যযোগেন ভক্তিরব্যভিচারিণী |
বিবিক্তদেশসেবিত্বং অরতির্জনসংসদি |১০|
অধ্যাত্মজ্ঞাননিত্যত্বং তত্ত্বজ্ঞানার্থদর্শনম্ |
এতজ্জ্ঞানম্ ইতি প্রোক্তং অজ্ঞানং যদতোঽন্যথা |১১|

তিনি স্বয়ং সেই সমস্ত গুণাবলীর সাক্ষ্য -

‘অমানিত্বম – অর্থাৎ, নিরহংকার ও নম্র থাকা - বলশালী জরাসন্ধকে বেশ কয়েকবার যুদ্ধে পরাজিত করার পর কৃষ্ণ যুদ্ধক্লান্ত হয়ে পড়লেন। যদি প্রতিনিয়ত এভাবেই আক্রমণ চলতে থাকে, জনগণের উন্নতি ও বিকাশের সম্ভাবনা কি আদৌ আছে ? সুতরাং তিনি স্থানত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। যদি প্রজাদের প্রাণ বাঁচে, তবে তাঁকে কেউ কাপুরুষ বলল কিনা, তাতে তাঁর কিছু এসে যায়না। কোনোরকম অহংকার বা ঔদ্ধত্য না দেখিয়ে তিনি বিদায় নিলেন। একইভাবে, নিজের মর্যাদার কথা চিন্তা না করে নরকাসুরের স্ত্রীদের তিনি নতুন জীবনদান করেছিলেন (ভ. পু. ১০.৫৯)।

‘অদম্ভিত্বম’ – অর্থাৎ, ভণ্ডামি ও দম্ভ থেকে মুক্ত হয়ে থাকা - কৃষ্ণ তাঁর অতীত নিয়ে কখনও লজ্জিত ছিলেননা, কখনও তাঁকে এ নিয়ে অভিযোগ করতেও দেখা যায়নি। তিনি কখনও তাঁর অতীত কে গোপন করার চেষ্টা করেননি এবং দম্ভ থেকে মুক্ত হয়েই বেঁচেছেন। গোকুলে গোপালকদের সঙ্গে বড় হওয়ার কারণে তাঁকে গোবিন্দ বলেও ডাকা হত। তিনি তাতে কখনও অপমানিত বোধ করেননি। তাঁর জীবন ছিল অকৃত্রিম। তিনি কখনও নিজেকে জাহির করার চেষ্টাও করেননি বা কখনও নিজেকে তাচ্ছিল্যও করেননি।

‘অহিংসা' – কৃষ্ণ তাঁর জীবনকালে কখনও কাউকে খেয়াল বশে আঘাত করেননি, এবং হয়ত সেই কারণেই তিনি নিঃসংশয়ে অর্জুনকে বলতে পেরেছিলেন - “শুভকর্মের জন্য যে সংগ্রাম করে তাকে কখনও দুর্দশার মুখ দেখতে হয়না” (ভ. গী. ৬.৪০)। কৃষ্ণ কখনও কারোর অমঙ্গল কামনা করেননি। শুধু ধর্মের বিরূদ্ধাচরণকারীদের শাস্তি দিয়েছেন মাত্র। মহাভারতের বিখ্যাত একটি বাণী - (এই শ্লোকটি জটিল সংস্করণে না থাকলেও অন্যান্য পুঁথি থেকে উদ্ধৃতি নেবার সময়ে উল্লেখ করা হয়েছে) - “অহিংসা পরমো ধর্মহ, ধর্মহিংসা তথৈব চ” - অহিংসাই হল পরম ধর্ম, ধর্মরক্ষার্থে হিংসাও সেই ধর্মেরই অন্তর্গত। অর্জুনকে তিনি এও বলেছিলেন ( ভ. গী. ২.৩৩)। কংসবধের পর (ভা. পু. ১০.৪৪) কৃষ্ণ কংসের পত্নীদের বাপের বাড়ি অর্থাৎ জরাসন্ধের কাছে পাঠিয়ে দেন। ভীমের হাতে জরাসন্ধের মৃত্যুর পর, কৃষ্ণ জরাসন্ধের পরিবার ও প্রজাদের নিরাপত্তা ও অভয় দান করেন এবং জরাসন্ধের পুত্র সহদেবকে সিংহাসনে বসান। এক সহস্র রাজাকে হত্যা করবার উদ্দেশে জরাসন্ধ বন্দী করে রেখেছিলেন। কৃষ্ণ তাঁদের সকলকে মুক্ত করেন। তাঁরা যখন জিজ্ঞাসা করেন যে এর পরিবর্তে তাঁরা কিছু সাহায্য করতে পারেন কিনা, কৃষ্ণ বলেন, “আমি কিছু চাইনা, কিন্তু বড় ভাল হয় যদি আপনারা যুধিষ্ঠিরের যজ্ঞে কোনও প্রকার সাহায্য করতে পারেন” (ম. ভা. ২.১৮-২২, ভা.পু. ১০.৭৩)। তিনি হিংসার বিপক্ষে ছিলেন বলেই অত্যন্ত সততার সঙ্গে পাণ্ডব ও কৌরবদের ভিতর শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন।

‘ক্ষান্তি – ক্ষমাশীলতা - কালিয়া নাগ বা শিশুপাল, গান্ধারী বা তাঁর প্রাণঘাতী ব্যাধ, সকলকেই তিনি ক্ষমা করেছিলেন।

‘আর্জবম' – ন্যায়পরায়ণতা, অকপটতা, সারল্য – কৃষ্ণ সর্বদা সোজাসাপটা কথা বলেন। কোনও বন্ধু অথবা অধিক শক্তিশালী ব্যক্তির ভুল ধরিয়ে দেবার সময়ও কৃষ্ণ কখনও তাঁর কথার ধরণ অযথা তির্যক করে তোলেননি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, শল্য পর্বে যখন দুর্যোধন সরোবরের গভীরে আত্মগোপন করে আছেন, তখন যুধিষ্ঠির দুর্যোধনকে উদ্দেশ্য করে একটা নির্বোধের মত প্রস্তাব করে বসলেন যে দুর্যোধন যদি পাণ্ডবদের মধ্যে যেকোনো একজনকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাস্ত করতে পারেন, তাহলেই তিনি সমস্ত রাজ্যলাভ করবেন। কৃষ্ণ এবার যুধিষ্ঠিরকে তীব্রভাবে তিরস্কার করলেন- “আপনি যথার্থই নির্বোধের ন্যায় কথা বলেছেন। একমাত্র ভীম ব্যতীত দ্বন্দ্বযুদ্ধে দুর্যোধনের সম্মুখীন হওয়ার ক্ষমতা আর কারোর নেই। আপনি পুনরায় দ্যূতক্রীড়া আরম্ভ করেছেন বলে মনে হচ্ছে (ম. ভা. ৯.৩২)।”

‘আচার্যোপাসনম– গুরুর সেবা করা - পাণ্ডব এবং কৌরবরা যখন দ্রোণের কাছ থেকে একান্তে শিক্ষাগ্রহণ করার সুবিধা ভোগ করছেন, কৃষ্ণকে তখন সান্দীপনীর কাছে শিক্ষালাভ করার জন্য মথুরা থেকে সুদূর উজ্জয়িনী যেতে হয়েছে। তাঁকে গুরুর জন্য গভীর বনে গিয়ে জ্বালানির কাঠ পর্যন্ত সংগ্রহ করে আনতে হত। পাণ্ডব এবং কৌরবদের এসব কিছুই করতে হয়নি।

‘শৌচম' – শুচিতা, শুধু শরীরের নয়, সেই সঙ্গে বাক্ ও মনেরও। কৃষ্ণ এই তিনদিক দিয়েই শুদ্ধ ছিলেন। তিনি ‘মানস বাচ কর্মন’ (চিন্তা, শব্দ ও কর্ম) – এর বিশুদ্ধতার প্রতীক।

‘স্থৈর্যম' – স্থৈর্য, স্থিরতা - কৃষ্ণ যখন অর্জুনকে তুষ্ট করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করছেন, তিনি নিজে কিন্তু তার আগে এর চেয়েও বড় যুদ্ধে লড়েছেন। তিনি চরম স্থৈর্য ও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন যখন তিনি জরাসন্ধের ২৮ অক্ষৌহিণী সৈন্যের সম্মুখীন হয়েছেন (যা মহাভারতে কৌরব ও পাণ্ডবদের মিলিত সৈন্য সংখ্যার চেয়েও বেশী)। তারপর তিনি শুধু ভীম ও অর্জুনকে সঙ্গে নিয়ে একেবারে সিংহের গুহা, গিরিব্রজে (জরাসন্ধের রাজধানী) প্রবেশ করেন। তিনি সর্বদা সরাসরি ভাবে শত্রুর সম্মুখীন হয়েছেন।

‘আত্মবিনিগ্রহঃ' – আত্মসংযম – কৃষ্ণের জীবনে আমরা কোনও হঠকারিতার উদাহরণ পাইনা বললেই চলে। তাঁকে হয়ত অনেক সময় তাৎক্ষণিক ভাবে কিছু করতে হয়েছে কিন্তু তাকে তাড়াহুড়ো করা বা আবেগপ্রবণতা বলা চলেনা। নিজের ইন্দ্রিয় ও সত্ত্বার উপর তাঁর পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। শান্তি দৌত্যের সময় দুর্যোধন কৃষ্ণকে বন্দী করার চেষ্টা করেন। অতি সহজেই কৌরবদের কবল মুক্ত হয়ে কৃষ্ণ বলেন, “ আত্মরক্ষা কীভাবে করতে হয় আমি জানি। হে রাজন, ওরা যদি হিংসা চায়, করতে দিন। কিন্তু, মর্যাদাহানি হয় এমন কোনও কর্ম আমি করবনা।”

‘ইন্দ্রিয়ার্থেষু বৈরাগ্যম ' – ইন্দ্রিয়ের প্রতি কারণগত বৈরাগ্য – কৃষ্ণ কখনও নিজের জন্য কিছু সঞ্চয় করেননি। তিনি সর্বদা সাধারণ বস্ত্র পরিধান করেছেন এবং সাধারণভাবেই জীবনধারণ করেছেন, কখনও নিজের ইন্দ্রিয়গুলিকে আশকারা দেননি। কংস, জরাসন্ধ, শিশুপাল বা কৌরবদের মত ভুল উপায়ে ক্ষমতালাভকারীদের সঙ্গে কৃষ্ণ কখনও সখ্যতা গড়ে তোলেননি, বরং সর্বহারা পাণ্ডবদের সঙ্গে স্বেচ্ছায় মিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। যাঁদের সদ্গুণ ছিল তাঁদের প্রতি যত্নবান হয়েছেন এবং ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রেখেছেন।

 ‘অনহংকার' – ঔদ্ধত্য থেকে মুক্ত – কৃষ্ণের দাদা বলরাম ছিলেন এক নিষ্প্রভ ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন মদ্যপ, জুয়াড়ি এবং দুর্যোধনের বন্ধু ( এবং গুরু)। কৃষ্ণের পৌত্র অনিরুদ্ধ এবং রুক্মির পৌত্রীর বিবাহকালে, বলরাম রুক্মির সঙ্গে পাশা খেলছিলেন। অসাধু উপায়ে জিতেও রুক্মি পরাজিত বলরামকে উত্যক্ত করছিলেন। বলরাম মেজাজ হারিয়ে সেখানেই রুক্মিকে হত্যা করেন। বিবাহবাসর শ্মশানে পরিণত হয়। রুক্মিণী কৃষ্ণের কাছে নালিশ করেন যে তাঁর দাদাকে কৃষ্ণের দাদা হত্যা করেছেন (যদিও বহু বছর ধরে রুক্মিণী ও রুক্মি পরস্পরের সঙ্গে কথা বলেননি)। বলরাম কৃষ্ণের কাছে নালিশ করেন যে, কৃষ্ণের শ্যালক অসাধু উপায় অবলম্বন করায় এই শাস্তি তাঁর প্রাপ্য ছিল। কৃষ্ণ শান্তই থাকেন। তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেখান না। (ভা. পু. ১০.৬১)

‘জন্মমৃত্যুজরাব্যাধিদুঃখদোষানুদর্শনম ' – জন্ম, মৃত্যু, বার্ধক্য, ব্যাধি এবং যন্ত্রণা সংক্রান্ত দুর্দশা ও ক্লেশের প্রতি যে অন্তর্দৃষ্টি - কৃষ্ণ কে কখনও জন্ম, মৃত্যু, বার্ধক্য, ব্যাধি বা যন্ত্রণা নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে দেখা যায়নি। তিনি শুধুই নিজের কর্ম করে গেছেন।

‘অসক্তিরনভিষ্বঙ্গঃ পুত্রদারগৃহাদিষু' – নিষ্কাম, স্ত্রী, পুত্র, গৃহের প্রতি অনাসক্ত। পরিবার-পরিজনদের থেকে কৃষ্ণ সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। যখন তাঁর স্ত্রীরা তাঁকে প্রায় নিলামে বিক্রি করে দিচ্ছিলেন, তিনি তুলাভারে বসে নারদকে তাঁর সবকিছু দিয়ে দেন। (এই উপাখ্যানটি হরিবংশের ক্রিটিকাল টেক্স্ট/জটিল সংস্করণে পাওয়া না গেলেও গোরখপুর সংস্করণে পাওয়া যায়)। তিনি কখনও এবিষয়ে একটি কথাও বলেননি। যখন তাঁর সন্তানেরা একে অন্যের বিরূদ্ধে লড়াই শুরু করেছে, কৃষ্ণ সেই অনাসৃষ্টি নিয়ে এতটুকুও বিচলিত ছিলেননা। সত্যি বলতে কি, তাঁকে একজন দায়িত্বজ্ঞানহীন পিতাও বলা যায়! তাঁর পুত্র শাম্ব দুর্যোধনের কন্যা লক্ষণার স্বয়ম্বরে গিয়েছিলেন। লক্ষণা তাঁকে পছন্দ না করায় শাম্ব হট্টগোল আরম্ভ করেন এবং দুর্যোধন তাঁকে আটক করেন। যখন কৃষ্ণ এই সম্বন্ধে জানতে পারেন, তিনি কোনওরকম কলহের পথে যাননা। তিনি শুধু বলেন, “ওকে কিছুদিন আটক থাকতে দাও, তাহলেই ওর শিক্ষা হবে।” বলরাম পরে গিয়ে শাম্বকে মুক্ত করে আনেন (ভা. পু. ১০.৬৮)। একইভাবে যখন কৃষ্ণ অর্জুনকে তাঁর ভগিনী সুভদ্রাকে হরণ করে বিবাহ করার পরামর্শ দেন, তখনও তিনি তাঁর পরিবারের মর্যাদার কথা ভেবে উদ্বিগ্ন হননি। সুভদ্রার জন্য যা ঠিক তিনি তাই করেছেন (তাঁর পিতা-মাতা সুভদ্রার জন্য যোগ্য পাত্র খুঁজে পাচ্ছিলেন না)।

‘নিত্যম চ সমচিত্তত্বম ইষ্টানিষ্টোপপত্তিষু– কাম্য ও অকাম্য ঘটনাবলীর প্রতি নিত্য মানসিক ধীরতা বজায় রাখা - এই একটি বিষয় যা কৃষ্ণের জীবনের সর্বত্র প্রত্যক্ষ করা যায়। তাঁকে অপ্রীতিকর মুহূর্তে বিচলিত হতেও দেখা যায়না, সুখকর মুহূর্তে আবেগে ভেসে যেতেও দেখা যায়না। তিনি প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছেন দৃঢ়চিত্তে ও নির্দ্বিধায়। বহুবার নানা অভিযোগের বাণ তাঁর দিকে নিক্ষিপ্ত হয়েছে এবং প্রতিবারই তিনি ধৈর্যের সঙ্গে সেসবের সম্মুখীন হয়েছেন। এমনকি, গান্ধারী যখন কৃষ্ণকে অভিশাপ দিলেন যে তাঁর গোষ্ঠীর সকলে পরস্পরের সঙ্গে ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে নাশ হবে, তিনি স্মিতহাস্য করে বলেছিলেন, “সেতো আমার বাকি রয়ে যাওয়া কাজ গুলির একটি” (ম. ভা. ১১.২৫-২৬)।

‘ময়ি চানন্যযোগেন ভক্তিরব্যভিচারিণী– আমার প্রতি (অর্থাৎ, ঈশ্বর) অটল ও অনন্যচিত্ত ভক্তি - কৃষ্ণ জানতেন তিনি স্বয়ং এক ‘অবতার’ এবং তাঁর অন্তঃস্থিত ঈশ্বরকে যথাযোগ্য শ্রদ্ধাও প্রকাশ করেছেন এবং একইসাথে ঈশ্বরের প্রতি প্রার্থনা করতে কখনও পিছপা হননি।

‘বিবিক্তদেশসেবিত্বম্অরতির্জনসংসদি' – একাকীত্বের সন্ধান করা এবং ইতরজনের থেকে ব্যবধান রাখা - বিশ্বের সঙ্গে কৃষ্ণের নিত্য সংযোগ আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হলেও, তিনি একাকীত্ব-ই পছন্দ করতেন বেশী। ভিড় থেকে তিনি দূরেই থাকতেন। সকলের সঙ্গে থেকেও মানসিকভাবে তিনি বিচ্ছিন্নই থাকতেন।

‘অধ্যাত্মজ্ঞাননিত্যত্বং' – প্রকৃত সত্ত্বাকে জানার জন্য একনিষ্ঠ অধ্যবসায় – কৃষ্ণ সর্বদা তাঁর প্রকৃত সত্ত্বার অন্বেষণ করেছেন এবং সর্বদা তাঁর অন্তরাত্মার দ্বারা পরিচালিত হয়েছেন।

‘তত্ত্বজ্ঞানার্থদর্শনম' – সত্যের জন্য নিত্য অন্বেষণ – কৃষ্ণ সর্বদা সত্যের পিছে ধাবমান। তিনি এক প্রকৃত যোগী, প্রকৃত জ্ঞানী, প্রকৃত ভক্ত। আশ্বমেধিক পর্বে অর্জুন কৃষ্ণকে বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে আপনি যে বাণী আমায় শুনিয়েছিলেন তা আমার আর মনে নেই। সে আজ অনেকদিন হয়েও গেল, আপনি যদি পুনরায় একবার বলেন। আমার বড় জানতে ইচ্ছা করছে।” কৃষ্ণ বলেন, “হে নির্বোধ! প্রথমবারে তুমি কি বুঝতে পারনি? মহৎ বাণীর পুনরাবৃত্তি হয়না। সে ছিল এক মহান, শাশ্বত রহস্য। আমি বলেছিলাম যে, যে আগ্রহী নয় বা যার মনে শ্রদ্ধা বা তপসের কমতি আছে তার সামনে এই বাণী উচ্চারণ করোনা। আমি বলেছিলাম ! এখন দেখছি তুমি প্রমাণ করলে যে, তোমার মনে শ্রদ্ধা বা তপস কোনটাই নেই! তুমি এক নির্বোধে পরিণত হয়েছ। আমি তোমায় ওই বাণীগুলি যখন শুনিয়েছিলাম, তখন আমি মানসিকভাবে গভীর যোগসাধনায় নিমগ্ন ছিলাম। এখন আমার পক্ষে সেই একই বাণী উচ্চারণ করা সম্ভব নয়” (ম. ভা. ১৪.১৬-৫০)। সম্ভবত এই কারণেই সঞ্জয় কৃষ্ণকে ‘যোগেশ্বর’ নামে অভিহিত করেছেন, অর্থাৎ যোগের উপর যার পরম দক্ষতা (ভ. গী. ১৮.৭৫)।

(ক্রমশ:)

মূলরচনা - শতাবধানী ডঃ আর. গণেশ ও হরি রবিকুমারের “ভগবদ-গীতা ইন দ্য লাইফ অফ কৃষ্ণ”

 

তথ্যসূত্র

ভাগবতপুরাণ (গোরখপুর: গীতা প্রেস)

মহাভারত এবং হরিবংশের (ক্রিটিকল টেক্স্ট) জটিল সংস্করণ / সমালোচনামূলক সংস্করণ (৫ খণ্ডে). সম্পাদনা - ভি. এস. সুখথংকর ও অন্যান্য (পুনে, ভাণ্ডারকর ওরিয়েন্টাল রিসার্চ ইন্সিটিউট – ১৯৬৬)

দ্য নিউ ভগবদ্গীতা - কোটি শ্রীকৃষ্ণ এবং হরি রবিকুমার (মেসন: ডব্লিউ. আই. এস. ই. ওয়র্ডস্‌ ২০১১)

Author(s)

About:

Dr. Ganesh is a 'shatavadhani' and one of India’s foremost Sanskrit poets and scholars. He writes and lectures extensively on various subjects pertaining to India and Indian cultural heritage. He is a master of the ancient art of avadhana and is credited with reviving the art in Kannada. He is a recipient of the Badarayana-Vyasa Puraskar from the President of India for his contribution to the Sanskrit language.

About:

Hari is a writer, translator, violinist, and designer with a deep interest in Vedanta, Carnatic music, education pedagogy design, and literature. He has worked on books like The New Bhagavad-Gita, Your Dharma and Mine, Srishti, and Foggy Fool's Farrago.

Translator(s)

About:

Sayantan Bandyopadhyay is a writer, tabla player, and computer engineer. He has an abiding interest in Indian classical music, cooking, linguistics, literature, history, and public awareness of science.

Prekshaa Publications

Prekṣaṇīyam is an anthology of essays on Indian classical dance and theatre authored by multifaceted scholar and creative genius, Śatāvadhāni Dr. R Ganesh. As a master of śāstra, a performing artiste (of the ancient art of Avadhānam), and a cultured rasika, he brings a unique, holistic perspective...

Yaugandharam

इदं किञ्चिद्यामलं काव्यं द्वयोः खण्डकाव्ययोः सङ्कलनरूपम्। रामानुरागानलं हि सीतापरित्यागाल्लक्ष्मणवियोगाच्च श्रीरामेणानुभूतं हृदयसङ्क्षोभं वर्णयति । वात्सल्यगोपालकं तु कदाचिद्भानूपरागसमये घटितं यशोदाश्रीकृष्णयोर्मेलनं वर्णयति । इदम्प्रथमतया संस्कृतसाहित्ये सम्पूर्णं काव्यं...

Vanitakavitotsavah

इदं खण्डकाव्यमान्तं मालिनीछन्दसोपनिबद्धं विलसति। मेनकाविश्वामित्रयोः समागमः, तत्फलतया शकुन्तलाया जननम्, मातापितृभ्यां त्यक्तस्य शिशोः कण्वमहर्षिणा परिपालनं चेति काव्यस्यास्येतिवृत्तसङ्क्षेपः।

Vaiphalyaphalam

इदं खण्डकाव्यमान्तं मालिनीछन्दसोपनिबद्धं विलसति। मेनकाविश्वामित्रयोः समागमः, तत्फलतया शकुन्तलाया जननम्, मातापितृभ्यां त्यक्तस्य शिशोः कण्वमहर्षिणा परिपालनं चेति काव्यस्यास्येतिवृत्तसङ्क्षेपः।

Nipunapraghunakam

इयं रचना दशसु रूपकेष्वन्यतमस्य भाणस्य निदर्शनतामुपैति। एकाङ्करूपकेऽस्मिन् शेखरकनामा चित्रोद्यमलेखकः केनापि हेतुना वियोगम् अनुभवतोश्चित्रलेखामिलिन्दकयोः समागमं सिसाधयिषुः कथामाकाशभाषणरूपेण निर्वहति।

Bharavatarastavah

अस्मिन् स्तोत्रकाव्ये भगवन्तं शिवं कविरभिष्टौति। वसन्ततिलकयोपनिबद्धस्य काव्यस्यास्य कविकृतम् उल्लाघनाभिधं व्याख्यानं च वर्तते।

Karnataka’s celebrated polymath, D V Gundappa brings together in the third volume, some character sketches of great literary savants responsible for Kannada renaissance during the first half of the twentieth century. These remarkable...

Karnataka’s celebrated polymath, D V Gundappa brings together in the second volume, episodes from the lives of remarkable exponents of classical music and dance, traditional storytellers, thespians, and connoisseurs; as well as his...

Karnataka’s celebrated polymath, D V Gundappa brings together in the first volume, episodes from the lives of great writers, poets, literary aficionados, exemplars of public life, literary scholars, noble-hearted common folk, advocates...

Evolution of Mahabharata and Other Writings on the Epic is the English translation of S R Ramaswamy's 1972 Kannada classic 'Mahabharatada Belavanige' along with seven of his essays on the great epic. It tells the riveting...

Shiva-Rama-Krishna is an English adaptation of Śatāvadhāni Dr. R Ganesh's popular lecture series on the three great...

Bharatilochana

ಮಹಾಮಾಹೇಶ್ವರ ಅಭಿನವಗುಪ್ತ ಜಗತ್ತಿನ ವಿದ್ಯಾವಲಯದಲ್ಲಿ ಮರೆಯಲಾಗದ ಹೆಸರು. ಮುಖ್ಯವಾಗಿ ಶೈವದರ್ಶನ ಮತ್ತು ಸೌಂದರ್ಯಮೀಮಾಂಸೆಗಳ ಪರಮಾಚಾರ್ಯನಾಗಿ  ಸಾವಿರ ವರ್ಷಗಳಿಂದ ಇವನು ಜ್ಞಾನಪ್ರಪಂಚವನ್ನು ಪ್ರಭಾವಿಸುತ್ತಲೇ ಇದ್ದಾನೆ. ಭರತಮುನಿಯ ನಾಟ್ಯಶಾಸ್ತ್ರವನ್ನು ಅರ್ಥಮಾಡಿಕೊಳ್ಳಲು ಇವನೊಬ್ಬನೇ ನಮಗಿರುವ ಆಲಂಬನ. ಇದೇ ರೀತಿ ರಸಧ್ವನಿಸಿದ್ಧಾಂತವನ್ನು...

Vagarthavismayasvadah

“वागर्थविस्मयास्वादः” प्रमुखतया साहित्यशास्त्रतत्त्वानि विमृशति । अत्र सौन्दर्यर्यशास्त्रीयमूलतत्त्वानि यथा रस-ध्वनि-वक्रता-औचित्यादीनि सुनिपुणं परामृष्टानि प्रतिनवे चिकित्सकप्रज्ञाप्रकाशे। तदन्तर एव संस्कृतवाङ्मयस्य सामर्थ्यसमाविष्कारोऽपि विहितः। क्वचिदिव च्छन्दोमीमांसा च...

The Best of Hiriyanna

The Best of Hiriyanna is a collection of forty-eight essays by Prof. M. Hiriyanna that sheds new light on Sanskrit Literature, Indian...

Stories Behind Verses

Stories Behind Verses is a remarkable collection of over a hundred anecdotes, each of which captures a story behind the composition of a Sanskrit verse. Collected over several years from...